Showing posts with label প্রবাস. Show all posts
Showing posts with label প্রবাস. Show all posts

Saturday, August 1, 2015

বন্ধু দিবস ২০১৫

Posted by with No comments
Hiking জিনিসটা আমি আজকেই প্রথম করছি না।তারপরও এই ব্যাপারটায় আমার পা ঠিক অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। প্রত্যেকবার শেষ কয়েক মাইল আমাকে মচকানো হাঁটু নিয়ে খুড়িয়ে শেষ করতে হয়েছে। মূল প্রসংগ সেটা নয়। বরাবরের মত আজও গাড়ি থেকে নেমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে সদর দরজার কাছে এসে চাবি বের করার জন্য পকেটে হাত ঢুকাতেই দরজা ঝিঝি পোকার মত শব্দ করে উঠল। মানে উপর থেকে কেউ আমার জন্য দরজার লক খুলে দিয়েছে। অবাক হলেও ব্যাপারটা খুব একটা গরজ না করে সিড়ি বেয়ে উঠে দেখি আমার দরজার সামনে আমার প্রতিবেশিনী ভেলমা হেলস দাড়িয়ে আছে।
- What happened to your leg?
- Nothing. Its body soreness for I hiked today.
তারপর সে বলল তুমি বেকিং পাউডার একটু গরম পানিতে মিশিয়ে পা ডুবিয়ে বসে থাকো। সোরনেস চলে যাবে। আমি থ্যাংক্যু দিয়ে ওর শরীরের খবর জিজ্ঞেস করলাম। সে বলতে শুরু করল। একবার বলতে শুরু করলে ভেলমা সহজে থামে না।আমি সহজে কাউরে না কইতে পারি না। বিরক্তি পেটের ভিতর রেখে হাসিমুখে সব শুনতে থাকলাম। নিজে থেকেই একটু পর বলল - ওহ সরি! য়্যু মাস্ট বি টায়ার্ড । গেট ওয়ারম শাওয়ার, এন্ড রেস্ট। আমি বাসায় ঢুকেই বাথরুমে চালান হয়ে গেলাম।
মিনিট দশেক পর দরজায় ধাক্কা। বেশ জোরেশোরে ধাক্কা। আমার এবাসার দরজায় আজ অব্দি কেউ নকও করে নি। অবাক হয়ে দরজা খুলে দেখি ভেলমা দাড়িয়ে। বলছে - আমি ভুল করে পাশের বাসায় নক করে ফেলেছি তারপর কথায় কথায় দেরি হয়ে গেল। তোমার কাছে হয়ত বেকিং পাউডার নেই - এই নাও এটা তোমার জন্য। রান্নার আগে এই কাপকেক দুইটা খাইয়া নিও। আমি আবারও অবাক এবং নির্বাক। আমার থ্যাঙক্যু নিয়ে ভেলমা কথা না বাড়িয়ে নিজের দরজা আটকে দিল।


কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আমার বেস্টফ্রেন্ড কে আমি উত্তর খুজে পাইনা। ইংরেজি ভাষার সুপারলেটিভ ডিগ্রী এখানে বেকার। আমি সবসময় গর্ব করি । আমার বন্ধু ভাগ্য ভাল - আই এম লাকি । আজ এক লটারিবিক্রেতার টিশার্টে লেখা দেখলাম "I am not just lucky, I am blessed." মনে হচ্ছে আমি শুধু লাকি না, আমিও ব্লেসড।


Monday, July 27, 2015

ডিমের পাঁচ মিনিটের পাঁচ প্যাচাল

Posted by with No comments


সত্যি বলছি ভাই
ডিমের মতন মহান খাবার ত্রিভুবনে নাই




ডিম হল অলস মানুষের প্রিয় খাবার। 1মিনিট থেকে 5 মিনিট সময়ের মধ্যে রান্না করা যায় এমন রেসিপি ডিমের যত আছে আর মনে হয় কারও তত নাই । সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সবচে শর্টকাট ব্রেকফাস্ট হল কর্ন ফ্লেক্স ,ওটমিল সাথে দুধ। ঢালো - গরম করো - খাও। আমি আরও আইলসা। ঢালো আর খাও।

একটানা সেরিয়াল কাহাতক আর খাওয়া যায়। তাই ভেরিয়েশন আনতে ডিম । কয়েকটা আইটেম এর একটা লিস্ট করে ফেল্লে কেমন হয় দেখি।এত সহজ রেসিপি যে এক্সপার্টরা দেখলে হাসবে-এই জিনিসেরও রেসিপি লাগে ?

....হ ভাই লাগে। জিবনে যে গরম পানি ছাড়া কিস্যু রান্দে নাই হের লেইগা ডিম ভাজতেও রেসিপি লাগে। যাউগ্গা কথা কম কাজ বেশি । এখানে কয়েকটা রেসিপি নোট করলাম যেগুলো ৫ মিনিটেরান্না করা সম্ভব।

১. ডিম পোচ -

একটা ফ্রাইপ্যানের সারফেস পরিষকার করে মুছে নিয়ে  মাঝারির চে একটু বেশি আচে প্যান গরম করে নিতে হবে। এরপর সামান্য তেল দিয়ে মুছে নিতে হবে।এরপর তাতে দুটো ডিম পাশাপাশি ছেড়ে দিতে হবে। ১ মিনিটেই হয়ে যাবে। (আমি তিন মিনিট রাখি)। একটু কাঁচা রাখতে চাইলে উলটানোর দরকার নাই।উল্টে দিলেই দুইপাশ ভালভাবে পোচ হয়ে যাবে।



২. ডিম পাটোয়ারি

সাধারন ডিম পোচের সাথে এর পার্থক্য সামান্যই। এক্সট্রা চিয়ার লিডার হিসবে হিসেবে পেয়াজ আর মরিচ লাগবে । আর লাগবে একটু লবন। পেয়াজ আর মরিচ ভাল করে কুচি কুচি কেটে নিতে হবে। এই পেয়াজ এবং মরিচের পরিমান নিজের মনমত ঠিক করে নিতে হবে।ডিম পোচের মত করে পাত্রে ডিম ছেড়ে দেবার সাথে সাথেই ডিমের উপর কুচি কুচি করে কাটা পেয়াজ আর মরিচ ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর একটু করে লবন ছিটিয়ে দিতে হবে। এই ডিমের একপাশ ভাল রান্নাহবে অন্য পাশ আধাআধি হবে।দুইপাশই ভাল করে করতে চাইলে ঢাকনা দিয়ে দেয়া যেতে পারে অথবা সাবধানে উল্টে নিতে হবে।

৩. ডিমভাজা

এজন্য শুরুতে পেয়াজ মরিচ কুচিকুচি করে কেটে নিয়ে একটু লবন মাখিয়ে  বাটিতে নিয়ে চটকে নিতে হবে। স্বাদের জন্য পেয়াজ মরিচের সাথে ধনিয়া পাতা অথবা পুদিনা পাতা কুচি কুচি করে কেটে দেয়া যেতে পারে (মাই ফেভ)।এরপর দুটো ডিম ফাটিয়ে বাটিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে ফেটে নিতে হবে।

কড়াই বা প্যান ধুয়ে মুছে গরম করে নিয়ে তাতে অল্প তেল ছেড়ে দিতে হবে।তেল গরম হলে তাতে ডিমের মিশ্রন ঢেলে দিতে হবে।

পাত্রের গায়ে লেগে থাকা ডিম তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে গিয়ে একটা লেয়ার তৈরী করে যার কারনে উপরের অংশ ভাজা হতে একটু সময় লাগে। এসময় প্যান একটু কাত করে একটু করে ঘুরিয়ে দিয়ে ডিমের মিশ্রনটাকে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায় অথবা চামচ বা চটা দিয়ে ভাজা হয়ে যাওয়া নিচের অংশ একটু করে ভেঙে/থেতলে দিতে হবে তাহলে উপরের তরল মিশ্রন পাত্রের সংস্পর্শে এসে যাবে।

এর পরও উপরের অংশ নরম থেকেই যাবে। একবার উল্টে দিলেই দুইপাশ ভাজা হয়ে যাবে। আর এই উল্টানোতেই আসল রাধুনির কেরামতি। পারলে এক চান্সে ডিম উল্টানোর টেকনিকটা রপ্ত করে নেয়া যেতে পারে। বেশি কেরামতি দেখাতে গেলে জামাকাপড় বা ফ্লোর নষ্ট করার রিস্ক থেকে যাবে কিন্তু।

৪. মাশরুম / স্পিনাচ (পালংশাক) অমলেট

মাশরুম ভাল করে ধুয়ে নিয়ে পছন্দ মত শেইপে কেটে নিতে হবে। এই অমলেট দুইভাবে করা যায়।দুইটার টেস্ট কিন্তু দুইরকম।

সিস্টেম - ১:
ডিমভাজার মত করে মি্শ্রন তৈরী করতে হবে। মরিচ পিয়াজ চটকে নেবার পর মাশরুমসহ ডিম ফেটে নিতে হবে। বাকি নিয়ম সাধারন ডিম ভাজার মতই। তবে বাড়তি কাজ হিসেবে শেষ এক মিনিটের আগে গোল হয়ে থাকা অমলেটের অর্ধেক কে বাকি অর্ধেকের উপর এনে দিয়ে অর্ধচন্দ্র শেইপ দিতে হবে। সোজা :) ।





সিস্টেম - ২:
এই সিস্টেমে পিয়াজ মরিচ চটকানো হয়ে গেলে তাতে মাশরুম নিয়ে নেড়ে সুষম মি্শ্রন বানাতে হবে।

 অন্য একটা পাত্রে ডিম নিয়ে তাতে লবনসহ ফেটে নিতে হবে।

এবার চুলায় মাঝারির চে একটু কম আচে  ফ্রাইপ্যান গরম করে নিতে হবে। প্যানের টপ সারফেস তেলে ভেজা ন্যাকড়া/টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে।

এবার তরল ডিম পাত্রের ঠিক মাঝখানে সাবধানে একটু একটু করে সুষমভাবে ঢেলে দিতে হবে।

ডিমের একপাশ মোটামুটি হয়ে এলে উপরে মাশরুম পেয়াজ মরিচ আর যাকিছু আছে তার মিশ্রন সুষমভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

একমিনিট পর নিচের সারফেস শক্ত হয়ে এলে এক পাশের অর্ধেক উল্টে অন্যপাশের উপর এনে দিতে হবে। এভাবে একমিনিট রাখলেই ভিতরে মাশরুম এবং যা কিছু আছে তা মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে খাবারউপযোগী হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ভিতরের অংশ একটু নরম থাকবে। চুলায় বেশিক্ষন রাখলেই ভিতরেও আর নরম থাকবে না।তবে বাইরের অংশ পুড়ে যাবার রিস্ক আছে। একটা ভাল বুদ্ধি হল- অর্ধেক উল্টে হাফ মুন বানানোর পর সেইফ কোনো প্লেটে নিয় মাইক্রোওয়েভে 30 সেকেন্ড গরম করে নেওয়া। ব্যস।

***  মাশরুমের জায়গায় স্পিনাচ নিলেই স্পিনাচ অমলেট হবে। সংগে চাইলে টমেটো দেয়া যায়। তেলের সঙ্গে হালকা বাটার/চিজ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্বাদ ভালো হয়।



৫. ডিম চাইনিজ

এইটার জন্য আগের দিনের লেফটওভার ভেজিটেবল লাগবে। আলুভাজি, তলানির ডাল, নিরামিষ এরকম যা কিছু রয়ে গেছে তার থেকে একটু একটু করে নিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে মেশাতে হবে। ডিমভাজির সিস্টেমে পেয়াজ মরিচের মিশ্রন বানাতে হবে।চুলায় ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে নিয়ে তাতে ডিমের মিশ্রনের অর্ধেকটা ঢেলে দিতে হবে। 15/20 সেকেন্ড পর তাতে বাসি তরকারির মিশ্রন ঢেলে দিয়ে হালকা করে নেড়ে দিতে হবে। এতে যাবে আরো এক মিনিট। খুন্তি দিয়ে পুরো জিনিসটা পাত্রের মাঝখানে জড়ো করতে হবে (স্তুপের মত নয়, ছড়ানোই থাকবে)। এরপর ডিম পিয়াজ মরিচের বাকি মি্শ্রন এর উপর ঢেলেদিতে হবে। খুন্তি দিয়ে আরকবার হালকা নাড়ত হবে। পরের একমিনিটেই তৈরী হয়ে যাবে ডিম চাইনিজ।




টিপস:

ডিম ভাজতে বেশি তেল লাগে না। পোচ করতে তেল না হলেও চলে। তাই তেল ভেজা ন্যাকড়া বা টিস্যু ব্যবহার করেছি আমি। আজকাল আমি সেটাও করি না। বাজারে তেলের স্প্রে কিনতে পাওয়া যায়। স্প্রে করে দিলে সময় বাঁচে আর বাঁচে হাত।

তেল হিসেবে ভেজিটেবল অয়েল, ক্যানোলা , সয়াবিন বা অলিভ অয়েল যে কোনটাই ব্যবহার করা যায়। ক্যানোলাতে ভাজলে একটু মনে হয় তাড়তাড়ি ভাজা হয়। যেসব খাবার মুচমুচে বানালে ভাল তাদের জন্য ক্যানোলা বেষ্ট। আমি অলিভ অয়েলের ফ্যান ; বাসায় গন্ধ কম হয়  :P ।



Tuesday, June 9, 2015

Mackinac Island 2015

Posted by with No comments
জুন মাসের ৬ তারিখের সকাল বেলা। Marquett Park এ অভিযাত্রীরা । দূরে Marquett সাহেবের মূর্তি । তারও পিছনে দেখা যাচ্ছে Fort Mackinac । সাদা পাথরে বাধানো সিড়ি দিয়ে উঠে দূর্গে প্রবেশ করেই ডানপাশে রাখা কামানটা থেকে একটা তোপধ্বনি করার কথা আমার। আগেই টিকিট কেটে কনফার্ম করে রাখা হয়েছে .





সকাল 9 টায় ট্রেনিং শুরু । তারপর ঠিক সাড়ে নয়টায় চালানো হল তোপ ।





পদব্রজে দ্বীপ প্রদক্ষিনের শুরু। দূর্গ থেকে বেরিয়ে বাগান মত একটা জায়গায় নেমে যাওয়া পথের বাঁকে এসে থামি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বাতায়ন পাশে এমন একটা দৃশ্য পাবার জন্য কত টাকা লাগবে ভাবতে থাকি।






স্কাউটের কুচকাওয়াজ Left .Right. Left ...Left... Left এর তালে তালে 






ক্যমেরায় সুজনের একটা ছবি তোলার প্রচেষ্টা চলছিল.এই ভদ্রলোক চলে এলেন ঠিক মোবাইলের লেন্সের সামনে।বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠেই দিলাম চেপে বাটন -
                                            না হয় থাকিস যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাঙচিল।





বাইক লেন ধরে হেটে চলা পথে । .....আমার পথচলার মা...ঝপথে  ...





 লেকের পাড় এত কাছে পেয়ে উচ্ছসিত , উচ্চকিত অভিযাত্রীরা





ঐ দূর দূর-দূরান্তে,
দিন-দিনান্তে, নীল-নীলান্তে,

কিছু জানতে না জানতে

শান্ত শান্ত মন অশান্ত হয়ে যায়।





আর্চেস রক, গম্বুজ পাথর





সুগারলোফ রক






আর্চেস রক (গম্বুজ পাথর) এর পথে দুই শতাধিক ধাপের সিড়িতে আগত অভিযাত্রীর দল

 




আবার সাইকেলে দ্বীপ প্রদক্ষিন । আমি আমার পায়ে চেপেই ফিরে চলি ফেরি ঘাটে । 





এই পথ গেছে মিশে আমার বেলা শেষে,
স্বপ্ন ফিরে আসে
পৃথিবীর দুরদেশে জীবনকে কোন এক স্বপ্ন ভেবে ...





সফল দ্বীপ প্রদক্ষিনের পর ট্যানডেমে সওয়ার যুগল





বৃষ্টিস্নাত সকালে বিষন্ন লেক হিউরন । ছেড়ে যাবার আগে শেষ দেখা । 



শেষ

মিলফোর্ড . ওহাইয়ো, ১০ ই জুন ২০১৫ 

Monday, May 18, 2015

রকি পর্বতমালা , আলবার্টা, কানাডা

Posted by with No comments
মে মাসের শেষ সোমবার মেমোরিয়াল ডে তে মার্কিনিরা এযাবত সব যুদ্ধে নিহত সেনা সদস্য দের স্মরণ করে। এইজন্যে সরকারিভাবে ১ দিনের ছুটি থাকে । Weekend এ শনিবার, রবিবার মিলিয়ে ৩ দিন। এইরকম ৩ দিনের ছুটিকে এদেশে সাধারন মানুষ  বলে "Long  weekend"। বুদ্ধিমানেরা শুক্রবার ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে একে   "Longer   weekend"বানিয়ে ফেলে। প্রতিবছর এই কাজটা  আমিও করি। দুই ঈদের নামাজের মতন মেমোরিয়াল ডে আর লেবার ডে  তে বেশ বড়সর দুইটা  রোড ট্রিপ দেওয়া একটা ধর্মীয় আচারের মতন হয়ে দাড়িয়েছে আমার জন্য। গত বছর এই সময়টাতে গিয়েছিলাম প্রশান্ত মহাসাগরের পাড় ঘেষে ছুটে চলা প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে ধরে। এখনো পর্যন্ত আমার জন্য "Best road trip  ever" । এবারের প্লান রকি পর্বতমালা। তিনগোয়েন্দার রকি বিচের ধারের রকি নয়। এই পর্বতমালার সবচে সুন্দর অংশ নাকি কানাডায়। আর সেখানেই আমাদের নিয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বন্ধু আফজাল হোসেন রূপক। সিনসিনাটি থেকে আমি আর তাপস; ভাঙ্কুবার থেকে আসছে রুশদী সুপ্তি আর য়ারা।

প্রস্তুতি হিসেবে কানাডার ভিসা নেওয়া হয়েছে ফেব্রুয়ারীতেই। ভিসা প্রসেস আমেরিকার ভিসা প্রসেস এর মতন খুব একটা সহজবোধ্য নয় , একটু যেন বিরক্ত লাগে এত এত ডকুমেন্ট একাধিকবার আপলোড করতে হয় বলে। aplication এক জায়গায় তো aplication fee  আরেক জায়গায়। দুর্বোধ্য আরো অনেক নিয়ম কানুনের বালাই। তার উপর নিজেও করেছি ভুল। ভিসার আবেদন পত্রে নাম ধাম পেশা এইসব ইংরেজির পাশাপাশি মাতৃভাষাতেও লেখা নিয়ম। আমি বেখেয়ালে শুধুই ইংরাজিতে ফর্ম ফিলআপ করে  বাড়তি টেনশনের ব্যবস্থা পাকা করেছি। অবশ্য ৬ মাসের ভিসা চেয়ে বেলাশেষে ৪ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পেয়ে বিরক্তি মুছে গিয়ে দিল খুশ হয়ে গেল।

সিনসিনাটি থেকে রেজাইনা পর্যন্ত দুরত্ব পাড়ি দিচ্ছি ডেল্টা এয়ারলাইন্স এর বিমানে চেপে । মিনিয়াপলিস এ ছোট্ট বিরতি।  এর বিপ্রতীপ ক্রমে পাড়ি দেয়া হবে ফিরতি পথটাও। মাঝখানে ৩ দিনে রেজাইনা থেকে গাড়িতে চেপে ঘুরে আসব "কানাডিয়ান রকিস"এর বিখ্যাত "বান্ফ মেমোরিয়াল পার্ক"।

বিমানসূচি :

Thu, 21MAYDEPARTARRIVE
DELTA 3652*
MAIN CABIN (T)
CINCINNATI
5:20pm
MPLS-ST PAUL
6:18pm
DELTA 4682*
MAIN CABIN (T)
MPLS-ST PAUL
7:45pm
REGINA
8:57pm
 Mon, 25MAYDEPARTARRIVE
DELTA 4490*
MAIN CABIN (V)
REGINA
3:02pm
MPLS-ST PAUL
6:00pm
DELTA 3933*
MAIN CABIN (V)
MPLS-ST PAUL
7:21pm
CINCINNATI
10:19pm

আমাদের প্রথম লে ওভার মিনিয়াপলিস , দের ঘন্টার মত লম্বা উড়াল ভ্রমন। মাঝখানে জানালা দিয়ে একসময় দেখা গেল লেক মিশিগান -
   

বলার মতন কোনো ঘটনা ছাড়াই পৌছে বিমান পৌছে গেল রেজাইনা এয়ারপোর্ট। ইমিগ্রেশন অফিসার কোথায় যাবা , কয়দিন থাকবা , এইসব কিছু প্রশ্ন করে ছেড়ে দিল। আজ পর্যন্ত ৪ টা দেশের ইমিগ্রেশন অফিসার দেখলাম। কানাডার রেজাইনা এয়ারপোর্ট এর ,মতন এত দ্রুত অভিবাসী নিকাশঘর আগে কোথাও দেখি নাই।

এয়ারপোর্ট থেকে বের হলে সবসময় ই যে ব্যাপারটা  ঘটে সেটা হচ্ছে ওয়েদার শক। নতুন দেশের নতুন আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা। সিনসিনাটি থেকে যখন রওনা  দেই তখন সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৫৭ ° ফা। ধরেই নিয়েছিলাম রেজাইনা  তে ৪০ কি ৪৫ তো হবেই। শক খেলাম পুরাই উল্টা দিক থেকে। রেজাইনার তাপমাত্রা তখন ৭৫ ° ফারেনহাইট।

সকালে সনিকে অফিসে দিয়ে এসে আমরা তিনজনে বের হলাম রেজাইনার পার্লামেন্ট এর পাশে হাটতে। সেখানে বেশ সুন্দর চেরি ফুটেছে।





রেজাইনা থেকে বান্ফ গাড়িতে ৮ ঘন্টার দুরত্ব। পথের জন্য কিছু snacks, বান্ফ এ গিয়ে বার বি কিউ এর জন্য প্রস্তুতি, আর মলে গিয়ে কিছু উপহার সামগ্রী কিনে দুপুর পার করে দেয়া হলো। বাসায় ফিরে রূপকের স্পেশাল খিচুড়ি । 

অতঃপর যাত্রা বান্ফের পথে। সনিকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ ৮ ঘন্টার ড্রাইভিং। রূপক একাই করলো। ক্যালগেরি শহর পার হতেই একটু একটু করে রকি মাউন্টেন উকি মারতে থাকে। একসময় প্রকান্ড সব পাহাড় পর্বতেরা সার বেধে দাড়িয়ে যায় পথের দুপাশে। আমাদের আপাত গন্তব্য ক্যানমোর শহর। পৌছুতে বেজে যায় রাত দশটা। 

পরদিন সকালে লজের ব্যালকনি থেকে পাহাড়কে পেছনে রেখে তোলা আমাদের এই ছবিটা জায়গা পেতেই পারে এইখানে। 


কফির জন্যে আমেরিকায় যেমন আছে স্টারবাকস কানাডার আছে টিম হর্টনস। সকালের প্রাতরাশ আর কফি চলল এক দফা সেখানে। 



কফির পর সালফার মাউন্টেন। এখানে হাইক  করে উঠা যায় ৫.৫ কিলোমিটার ট্রেইল, এলিভেশন গেইন অবশ্য মাত্র ৬৫৫ মিটার। আমাদের সবার হাইক  করার সামর্থ্য বা পর্যাপ্ত ইচ্ছাশক্তি নেই তাই মাথা প্রতি ৪০ ডলার খরচ করে কেবল কার নেয়া হলো। চূড়ায় অবশ্য সিড়ি  বাধানো পথ আছে। সেখান থেকে চার পাশের উপত্যকার নৈসর্গ উপভোগ করা যায়। 



ঘন্টা খানেক পর আমরা রওনা  দেই লেক লুইস এর পথে। ২০ মিনিট কি  আধা ঘন্টার দুরত্ব হবে সালফার মাউন্টেন থেকে। এখানে মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসেও বরফ মাত্র গলতে শুরু করেছে । আর কদিন পরে এলেই কায়াকিঙ  করা যেত অনায়াসে। সমুদ্র সমতল থেকে ১৭৫০ মি (৫৭৪১ ফুট ) উচ্চতায় এখানে পানি জলজ শৈবালের কারণে turquoise নীল্ বর্ণ ধারণ করে আছে।




কাছেই আবার ২০ মিনিটের দুরত্বে আছে মোরেন লেক। সেটা আরেকটু উচুতে ১৮৮৪ মি (৬১৮১ ফুট) এখানে বরফ আরেকটু বেশি। মোরেন লেক এর ভিস্তা পয়েন্ট এ দাড়ালে পাশের ১০ টা চূড়াকে একসাথে দেখতে পাওয়া যায়। সুপ্তি অবশ্য গুনে ৮ টা  পেয়ে বেশ আপসেট। নিচের প্রথম ছবিটা মোরেন  লেক এর। পরেরটা ভিস্তা পয়েন্ট থেকে নেমে আসা পথের। 




এই লেক গুলোর সবাইকে একটার সাথে আরেকটাকে যুক্ত করেছে  'বো রিভার ' নামের একটা নদী। এই বো রিভার এর এখানে সেখানে আছে বেশ কয়েকটা জলপ্রপাত। তারই একটা 'বো ফলস' আমাদের পরের গন্তব্য।ছবির বাম পাশের পার্কে মানুষ প্রকৃতি দেখতে আসে আর ডান পাশের পাহাড়ের উপর আসে ক্যাম্পিং করতে।



বো ফলস এর পাশেই  পর্যটক দের অর্থ কড়ি খসানোর জন্য একটা শপিং এরিয়া সহ ছোট শহর আছে। বিকালটা শহর ঘুরে , কফি - স্মুদি খেয়ে পার করে দিলাম। পথের পাড়ে বেঞ্চে বসে সর্বনাশ করে দিল শরণ। মেঘদলের রোদের ফোটা খালি গলায় গেয়ে মাথার ভিতর ঢুকিয়ে দিল। এর পর প্রায় সপ্তা দুয়েক ধরে মাথার ভেতর শুধু ঘুরছে 

"শোনো কবি  ! শোনো  কবিতা !!
ভাঙ্গো দীর্ঘ মূর্ছনা  
রাখো এইখানে হাত টুকু 
তবু চলে যেতে বোলোনা !"


বো রিভার থেকেই আমরা আবার আমাদের লজে ফিরে যাই। সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পরে কেউ , কেউ খাটে। রুশদী আমি আর তাপস আজাইরা গ্যাজাইতে থাকি অনেক রাত পর্যন্ত। একটার পর একটা ট্রেন ছুটে যায় আমাদের লজের পেছনের রেলপথ বেয়ে। 




একসময় আমাদেরও তেল ফুরোয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাক্স পেটরা গুছিয়ে যার যার রাস্তা মাপতে থাকি। বিদায়ের সময়টা আমি সবসময় সংক্ষিপ্ত রাখতে চাই। এর যেন কোনো স্মৃতি না থাকে।


(শেষ )
জুন ৪ ২০১৫, সিনসিনাটি, ওহাইও 

Friday, July 4, 2014

প্রবাসী শ্রমিকের দপ্তর থেকে -৩

Posted by with No comments

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল হয়ে গেল। জার্মানি শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে শিরোপা জিতে নিল । নিজে সাপোর্টার বলেই একটু উচ্ছসিত আমি নিজেও । এলাকার সমবয়সী সবাইকে রোজার দিনে কিছু খাওয়ানোর আশ্বাস না দিয়েই বাসায় ডেকে এনেছিলাম। সাদাত-তিয়াসা পরিবার , নাবিলা আর এরফান।  সামি আর তাপসের সঙ্গে এমনিতেই সবসময় খেলা দেখি , ওরা তো আছেই ।

Wednesday, June 25, 2014

প্রশান্তপকূলমহাসড়ক

Posted by with No comments


memorial day weekend এ গত বছর মার্কিন মিড ওয়েস্ট এর ৫ টা নতুন স্টেট ঘুরে দেখেছিলাম - মিসৌরি কানসাস নেব্রাস্কা আইওয়া  উইসকনসিন। এবার সেরকম কিছু একটা করার প্লান ছিল। কথায়  কথায়    সামি আর তাপস এর সাথে ঠিক করলাম pacific coast highway টা ড্রাইভ করে ফেললে কেমন হয়? যেই কথা সেই কাজ ২ দিনের মাথায় সিনসিনাটি থেকে ওয়াশিংটন আর সান ডিয়েগো থেকে সিনসিনাটির ওয়ান ওয়ে  টিকেট করা হলো। দুই দেশের আর বন্ধুদের জানানো হলো প্লান এর কথা যাতে তারা যোগ দিতে পারে। যদিও জানাই ছিল কেউ পারবে না। রুশদি আর সুপ্তি ভাঙ্কুবার থাকে । সীমান্তের ওপার থেকে ড্রাইভ করে চলে আসবে ওরা। একদিন ওয়াশিংটন এর জন্য রেখে বাকি ৩ দিন PCH এর জন্য বরাদ্দ। সেই মত অফিস থেকে শুক্রবার  ছুটি ও নেয়া হলো। 

Thursday, May 29, 2014

প্রবাসী শ্রমিকের দপ্তর থেকে -২

Posted by


বাঙালির বিদেশ বিমুখতা আজকের নয়  ;  শতাব্দী প্রাচীন। সেকালে সমুদ্রযাত্রা খারাপ  এই রকম ভিত্তিহীন অজুহাতে লোকজন বিদেশ যেত না বা যেতে দেয়া হত না।  সেই প্রথা ভাঙ্তে  চেয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়।  মনে হয়না খুব একটা কাজ হয়েছে। দেশের বিশাল একটা অংশ এখনো  "এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না " এই রকম দর্শন অন্তরে লালন করে । কারনটা দেশের প্রতি টান নয় ; কারন হচ্ছে - নতুন দেশ, নতুন কিছু'র  প্রতি বাঙালির চিরকালের ভীতি বা জড়তা। দেশপ্রেম এখানে অজুহাত মাত্র। [পুরোপুরি ব্যক্তিগত ধারনা]

Friday, May 2, 2014

প্রবাসী শ্রমিকের দপ্তর থেকে

Posted by
1. মে ২, ২০১৪


তার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিন । একই রকম পারিবারিক সীমানার মধ্যে বড় হয়েছি। অনেক বই পড়ুয়া। আমি স্কুল পালিয়ে বাসায় মুভি অব দা উইক  দেখি। সে  পালায় মাসুদ রানার বই পড়তে।