এই বইয়ের রিভিউ লেখার সাধ্য আমার নাই।তবে অনুভুতির তরজমা তো করতেই পারি। এই উপন্যাস একাধিক ব্যর্থ মানুষদের উপাখ্যান। রশীদ সাহেব মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না , ডিগ্রীধারি বেকার দুই ছেলে সহ এক পরিবারে রোজগার চালু রাখতে বুড়ো বয়সে ছাত্র পড়াতে হচ্ছে। স্ত্রী কেন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তা জেনেও জানতে পারেন নি হোসেন সাহেব। মায়ের পরপুরুষের হাত ধরে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি সাজ্জাদ।দিনে দিনে বেড়ে উঠেছে antisocial psychopath হিসেবে। কবি হয়ে ওঠার স্বপ্নেবিভোর সাজ্জাদের ঠাই হয় মাদকাসক্তদের চিকিত্সাকেন্দ্রে। সাজ্জাদের দুই বন্ধু মজিদ আর আতাহার। মজিদের কাছে কবিতা আরাধনার বস্তু।সুবর্ন পত্রিকার সম্পাদকের মতে সত্যি সত্যি কবি হয়ে উঠছিল মজিদ। জাহেদার নিষ্কলুষ প্রেমও তার আরাধ্য। শেষে কবিত্ব বিসর্জন দিয়ে সংসারী হয় মজিদ। এদিকে লেখার হাত যেমনই, হোক কবিতার জন্য প্রায় সবকিছুই বিসর্জন দেয় আতাহার।কবিতা আর নীতু এই দুইজন বাদে বাকি সবই জীবন থেকে বাদ গেছে তার।
উপন্যাসের শেষ অংশে এসে তারাশঙকরের নিতাই কে কোট করছেন লেখক ("জীবন এত ছোট কেনে")। মানুষের জীবনের অপ্রাপ্তি নিয়ে উপন্যাস সম্ভবত অনেক লেখা হয়েছে। তারাশংকরের "কবি"র পর হুমায়ুন আহমেদের "কবি" যেন এক সিক্যুয়েল।হয়তো অন্য কোন লেখকের লেখায় আবার আরো "কবি" লেখা হবে। যতবার লেখা হবে ততবারই হয়তো আমি এমনটাই মুগ্ধ হয়ে পড়ব।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মজীবনি পড়া শেষ করলাম। তার নিজের হাতে লেখা ও তার মেয়েদের হাতে সম্পাদিত বইটিতে তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকের দিনলিপি এখানে তিনি তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন । তার লেখার ভঙ্গি অনেকটা গল্পের মতন; একটু যেন সৈয়দ মুজতবা আলির স্টাইলটা আসে । আড্ডার আমেজ আছে ; অতটা যদিও সরস বর্ননা নয়, তবে পরের অনুচ্ছেদটা পড়তে ইচ্ছা করে। শেখ মুজিব বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচে উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।তার মানসজগতের পরিচয়ের খোজ নেবার ইচ্ছা বাঙালির হতেই পারে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই । এই বইয়ের ঘটনাবলি ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৫ সময়কার । তখনো আইয়ুব খান ক্ষমতায় আসেন নি। ইস্কানদার মির্জা মাত্র দৃশ্যপটে হাজির হচ্ছেন।
শেখ মুজিবের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা পাওয়া যায় না এই বইতে। তার নিজের লেখাতেও তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন প্রায়ই; তবে সংগঠক হিসবে তিনি যে অসাধারন তার লেখাতেও তা স্পষ্ট। ১৯৪৩ এ যখন মুসলিম লীগকে অভিজাতদের ড্রয়িংরুম থেকে বের করে রাজপথে নামানো হচ্ছে তার মূল পরিকল্কপক সোহরাওয়ার্দী আর কর্মী এই শেখমুজিব। সেই মুসলিম লীগ যে অবিভক্ত বাংলায় সরকার গঠন করল তার পেছনে তার অসামান্য অবদান তার। ১৯৪৯ সালে মুসলিম লীগের মেরুদন্ডহীন শীর্ষ নেতারা যখন নবগঠিত রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক পাঞ্জাবি আমলাদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছিলেন। তখন একটি বিরোধি দলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। দেশপ্রেমিক মুসলিম লীগের নেতারা তখন কোনঠাসা ক্ষমতায় থাকা নেতাদের কাছে। তাদের নিয়ে ভাসানির সভাপতিত্বে গঠন করা হল আওয়ামী লিগ। এই দলটাও গুছিয়ে দিলেন মূলত শেখ মুজিব। আওয়ামী লিগের ভাসানি আর কৃষক প্রজা পার্টির ফজলুল হক বার্ক্যধজনিত কারনে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখাতে পারছেন না। আজ এক বলছেন তো কাল আরেক কথা বলছেন।দল প্রতিদিন ভাঙে আর গড়ে। শেখ মুজিব তাদের দুজনের উপর বিরক্ত কিন্তু একবারও মুখের উপর কিছু বলছেন না। তার সততা আর স্পষ্টবাদিতার জন্যই তাকে মানুষ বিশ্বাস করত। আর নিজে বড় সরকারি পদে না থেকেও সরকারে যাবার জন্য শেখ মুজিবকে দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করিয়ে নেয়াটা তখনকার বড় নেতাদের জন্যও অনেকটা অপরিহার্য ছিল। পার্টির হয়ে সভা করছেন, জনগনের কাছে কখনো আওয়ামিলীগের বক্তব্য তুলে ধরছেন, কখনো যুক্তফ্রন্টের যৌক্তিকতা; আর দুদিন পর পর জেলে ঢুকছেন। দ্বিগুন জনপ্রিয়তা নিয়ে আবার বের হয়ে আসছেন। এই অসমাপ্ত আত্মজীবনিতে এর চে বেশি খুব একটা ইনফরমেশন নেই ।
প্রথম ৭৫ পৃষ্ঠা উঠতি রাজনীতিকদের জন্য কাজে লাগতে পারে।এই অংশেই মূলত তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে করতে তাদের মানুষ হয়ে উঠছেন। একটা সমাজের নেতা হতে হলে সেই সামাজের একজন হতে হয়। শেখ মুজিব সেটা হয়ে উঠেছিলেন মূলত তার স্কুল জীবনেই। তবে এই অংশে যে ভাষায় তিনি হিন্দু বাড়ির লোকজনের মানসিকতার সমালোচনা করেছেন এই যুগে হলে তাকে মৌলবাদি ট্যাগ খেতে হত সন্দেহ নাই। অবশ্য পার্টিশনের পরে এই প্রতিবেশিদের যেন দেশ ছাড়তে না হয় তার জন্যে নিজেই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
জেলে বসে শেখ মুজিব এই ডায়রি লিখছেন। ডায়রীর শেষ দুই তৃতীয়াংশে প্রতিটা ঘটনার বর্ননায় মুসলিম লিগের প্রতি তীব্র সমালোজনা ছুড়ে দিচ্ছেন। মুসলিম লীগ আমলা নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, গভর্নর জেনারেল সব ক্ষমতা নিয়ে নিচ্ছে, বিরোধি দলকে সহ্য করা হচ্ছে না, বিরোধি নেতাদের নিরাপত্তা আইনের অজুহাতে জেলে ভরা হচ্ছে। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে মুসলিম লীগের যেসব আচরনের সমালোচনা তিনি নিজে করছেন ঠিক একই আচরন তিনি নিজে করেছেন ৭২ থেকে ৭৫ অব্দি। শেরে বাংলা আর ভাসানির উপর ঠিক যে কারনে তিনি বিরক্ত হচ্ছেন তেমনি তার আচরনে বিরক্ত হচ্ছেন তাজউদ্দিনেরা।
ড. জাফর ইকবাল যেভাবে বইটির প্রশংসা করেছেন ততটা প্রশংসা পাবার মতন জিনিস এইটাকে আমার মনে হয় নাই। প্রথম কথা- বইটা অসম্পূর্ন। এবং এটা থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিনত বয়সের রাজনৈতিক দর্শনের কোন খোঁজ পাওয়া যায় না । যে বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছিলেন তার শুরুর সময়টার কিছু ধারনা পাওয়া যাবে মাত্র। তবে প্রথম ৭৫ পৃষ্ঠা উঠতি রাজনীতিকের চিন্তা জগতের বাড়ির লিভিংরুম হতে পারে।
Hiking জিনিসটা আমি আজকেই প্রথম করছি না।তারপরও এই ব্যাপারটায় আমার পা
ঠিক অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। প্রত্যেকবার শেষ কয়েক মাইল আমাকে মচকানো
হাঁটু নিয়ে খুড়িয়ে শেষ করতে হয়েছে। মূল প্রসংগ সেটা নয়। বরাবরের মত আজও
গাড়ি থেকে নেমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে সদর দরজার কাছে এসে চাবি বের করার জন্য পকেটে
হাত ঢুকাতেই দরজা ঝিঝি পোকার মত শব্দ করে উঠল। মানে উপর থেকে কেউ আমার
জন্য দরজার লক খুলে দিয়েছে। অবাক হলেও ব্যাপারটা খুব একটা গরজ না করে সিড়ি
বেয়ে উঠে দেখি আমার দরজার সামনে আমার প্রতিবেশিনী ভেলমা হেলস দাড়িয়ে আছে।
- What happened to your leg? - Nothing. Its body soreness for I hiked today.
তারপর সে বলল তুমি বেকিং পাউডার একটু গরম পানিতে মিশিয়ে পা ডুবিয়ে বসে
থাকো। সোরনেস চলে যাবে। আমি থ্যাংক্যু দিয়ে ওর শরীরের খবর জিজ্ঞেস করলাম।
সে বলতে শুরু করল। একবার বলতে শুরু করলে ভেলমা সহজে থামে না।আমি সহজে কাউরে
না কইতে পারি না। বিরক্তি পেটের ভিতর রেখে হাসিমুখে সব শুনতে থাকলাম। নিজে
থেকেই একটু পর বলল - ওহ সরি! য়্যু মাস্ট বি টায়ার্ড । গেট ওয়ারম শাওয়ার,
এন্ড রেস্ট। আমি বাসায় ঢুকেই বাথরুমে চালান হয়ে গেলাম।
মিনিট দশেক
পর দরজায় ধাক্কা। বেশ জোরেশোরে ধাক্কা। আমার এবাসার দরজায় আজ অব্দি কেউ নকও
করে নি। অবাক হয়ে দরজা খুলে দেখি ভেলমা দাড়িয়ে। বলছে - আমি ভুল করে পাশের
বাসায় নক করে ফেলেছি তারপর কথায় কথায় দেরি হয়ে গেল। তোমার কাছে হয়ত বেকিং
পাউডার নেই - এই নাও এটা তোমার জন্য। রান্নার আগে এই কাপকেক দুইটা খাইয়া
নিও। আমি আবারও অবাক এবং নির্বাক। আমার থ্যাঙক্যু নিয়ে ভেলমা কথা না বাড়িয়ে
নিজের দরজা আটকে দিল।
কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আমার বেস্টফ্রেন্ড কে
আমি উত্তর খুজে পাইনা। ইংরেজি ভাষার সুপারলেটিভ ডিগ্রী এখানে বেকার। আমি
সবসময় গর্ব করি । আমার বন্ধু ভাগ্য ভাল - আই এম লাকি । আজ এক
লটারিবিক্রেতার টিশার্টে লেখা দেখলাম "I am not just lucky, I am blessed."
মনে হচ্ছে আমি শুধু লাকি না, আমিও ব্লেসড।
ডিম হল অলস মানুষের প্রিয় খাবার। 1মিনিট থেকে 5 মিনিট সময়ের মধ্যে রান্না করা যায় এমন রেসিপি ডিমের যত আছে আর মনে হয় কারও তত নাই । সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সবচে শর্টকাট ব্রেকফাস্ট হল কর্ন ফ্লেক্স ,ওটমিল সাথে দুধ। ঢালো - গরম করো - খাও। আমি আরও আইলসা। ঢালো আর খাও।
একটানা সেরিয়াল কাহাতক আর খাওয়া যায়। তাই ভেরিয়েশন আনতে ডিম । কয়েকটা আইটেম এর একটা লিস্ট করে ফেল্লে কেমন হয় দেখি।এত সহজ রেসিপি যে এক্সপার্টরা দেখলে হাসবে-এই জিনিসেরও রেসিপি লাগে ?
....হ ভাই লাগে। জিবনে যে গরম পানি ছাড়া কিস্যু রান্দে নাই হের লেইগা ডিম ভাজতেও রেসিপি লাগে। যাউগ্গা কথা কম কাজ বেশি । এখানে কয়েকটা রেসিপি নোট করলাম যেগুলো ৫ মিনিটেরান্না করা সম্ভব।
১. ডিম পোচ -
একটা ফ্রাইপ্যানের সারফেস পরিষকার করে মুছে নিয়ে মাঝারির চে একটু বেশি আচে প্যান গরম করে নিতে হবে। এরপর সামান্য তেল দিয়ে মুছে নিতে হবে।এরপর তাতে দুটো ডিম পাশাপাশি ছেড়ে দিতে হবে। ১ মিনিটেই হয়ে যাবে। (আমি তিন মিনিট রাখি)। একটু কাঁচা রাখতে চাইলে উলটানোর দরকার নাই।উল্টে দিলেই দুইপাশ ভালভাবে পোচ হয়ে যাবে।
২. ডিম পাটোয়ারি
সাধারন ডিম পোচের সাথে এর পার্থক্য সামান্যই। এক্সট্রা চিয়ার লিডার হিসবে হিসেবে পেয়াজ আর মরিচ লাগবে । আর লাগবে একটু লবন। পেয়াজ আর মরিচ ভাল করে কুচি কুচি কেটে নিতে হবে। এই পেয়াজ এবং মরিচের পরিমান নিজের মনমত ঠিক করে নিতে হবে।ডিম পোচের মত করে পাত্রে ডিম ছেড়ে দেবার সাথে সাথেই ডিমের উপর কুচি কুচি করে কাটা পেয়াজ আর মরিচ ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর একটু করে লবন ছিটিয়ে দিতে হবে। এই ডিমের একপাশ ভাল রান্নাহবে অন্য পাশ আধাআধি হবে।দুইপাশই ভাল করে করতে চাইলে ঢাকনা দিয়ে দেয়া যেতে পারে অথবা সাবধানে উল্টে নিতে হবে।
৩. ডিমভাজা
এজন্য শুরুতে পেয়াজ মরিচ কুচিকুচি করে কেটে নিয়ে একটু লবন মাখিয়ে বাটিতে নিয়ে চটকে নিতে হবে। স্বাদের জন্য পেয়াজ মরিচের সাথে ধনিয়া পাতা অথবা পুদিনা পাতা কুচি কুচি করে কেটে দেয়া যেতে পারে (মাই ফেভ)।এরপর দুটো ডিম ফাটিয়ে বাটিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে ফেটে নিতে হবে।
কড়াই বা প্যান ধুয়ে মুছে গরম করে নিয়ে তাতে অল্প তেল ছেড়ে দিতে হবে।তেল গরম হলে তাতে ডিমের মিশ্রন ঢেলে দিতে হবে।
পাত্রের গায়ে লেগে থাকা ডিম তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে গিয়ে একটা লেয়ার তৈরী করে যার কারনে উপরের অংশ ভাজা হতে একটু সময় লাগে। এসময় প্যান একটু কাত করে একটু করে ঘুরিয়ে দিয়ে ডিমের মিশ্রনটাকে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায় অথবা চামচ বা চটা দিয়ে ভাজা হয়ে যাওয়া নিচের অংশ একটু করে ভেঙে/থেতলে দিতে হবে তাহলে উপরের তরল মিশ্রন পাত্রের সংস্পর্শে এসে যাবে।
এর পরও উপরের অংশ নরম থেকেই যাবে। একবার উল্টে দিলেই দুইপাশ ভাজা হয়ে যাবে। আর এই উল্টানোতেই আসল রাধুনির কেরামতি। পারলে এক চান্সে ডিম উল্টানোর টেকনিকটা রপ্ত করে নেয়া যেতে পারে। বেশি কেরামতি দেখাতে গেলে জামাকাপড় বা ফ্লোর নষ্ট করার রিস্ক থেকে যাবে কিন্তু।
৪. মাশরুম / স্পিনাচ (পালংশাক) অমলেট
মাশরুম ভাল করে ধুয়ে নিয়ে পছন্দ মত শেইপে কেটে নিতে হবে। এই অমলেট দুইভাবে করা যায়।দুইটার টেস্ট কিন্তু দুইরকম।
সিস্টেম - ১:
ডিমভাজার মত করে মি্শ্রন তৈরী করতে হবে। মরিচ পিয়াজ চটকে নেবার পর মাশরুমসহ ডিম ফেটে নিতে হবে। বাকি নিয়ম সাধারন ডিম ভাজার মতই। তবে বাড়তি কাজ হিসেবে শেষ এক মিনিটের আগে গোল হয়ে থাকা অমলেটের অর্ধেক কে বাকি অর্ধেকের উপর এনে দিয়ে অর্ধচন্দ্র শেইপ দিতে হবে। সোজা :) ।
সিস্টেম - ২:
এই সিস্টেমে পিয়াজ মরিচ চটকানো হয়ে গেলে তাতে মাশরুম নিয়ে নেড়ে সুষম মি্শ্রন বানাতে হবে।
অন্য একটা পাত্রে ডিম নিয়ে তাতে লবনসহ ফেটে নিতে হবে।
এবার চুলায় মাঝারির চে একটু কম আচে ফ্রাইপ্যান গরম করে নিতে হবে। প্যানের টপ সারফেস তেলে ভেজা ন্যাকড়া/টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে।
এবার তরল ডিম পাত্রের ঠিক মাঝখানে সাবধানে একটু একটু করে সুষমভাবে ঢেলে দিতে হবে।
ডিমের একপাশ মোটামুটি হয়ে এলে উপরে মাশরুম পেয়াজ মরিচ আর যাকিছু আছে তার মিশ্রন সুষমভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
একমিনিট পর নিচের সারফেস শক্ত হয়ে এলে এক পাশের অর্ধেক উল্টে অন্যপাশের উপর এনে দিতে হবে। এভাবে একমিনিট রাখলেই ভিতরে মাশরুম এবং যা কিছু আছে তা মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে খাবারউপযোগী হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ভিতরের অংশ একটু নরম থাকবে। চুলায় বেশিক্ষন রাখলেই ভিতরেও আর নরম থাকবে না।তবে বাইরের অংশ পুড়ে যাবার রিস্ক আছে। একটা ভাল বুদ্ধি হল- অর্ধেক উল্টে হাফ মুন বানানোর পর সেইফ কোনো প্লেটে নিয় মাইক্রোওয়েভে 30 সেকেন্ড গরম করে নেওয়া। ব্যস।
*** মাশরুমের জায়গায় স্পিনাচ নিলেই স্পিনাচ অমলেট হবে। সংগে চাইলে টমেটো দেয়া যায়। তেলের সঙ্গে হালকা বাটার/চিজ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্বাদ ভালো হয়।
৫. ডিম চাইনিজ
এইটার জন্য আগের দিনের লেফটওভার ভেজিটেবল লাগবে। আলুভাজি, তলানির ডাল, নিরামিষ এরকম যা কিছু রয়ে গেছে তার থেকে একটু একটু করে নিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে মেশাতে হবে। ডিমভাজির সিস্টেমে পেয়াজ মরিচের মিশ্রন বানাতে হবে।চুলায় ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে নিয়ে তাতে ডিমের মিশ্রনের অর্ধেকটা ঢেলে দিতে হবে। 15/20 সেকেন্ড পর তাতে বাসি তরকারির মিশ্রন ঢেলে দিয়ে হালকা করে নেড়ে দিতে হবে। এতে যাবে আরো এক মিনিট। খুন্তি দিয়ে পুরো জিনিসটা পাত্রের মাঝখানে জড়ো করতে হবে (স্তুপের মত নয়, ছড়ানোই থাকবে)। এরপর ডিম পিয়াজ মরিচের বাকি মি্শ্রন এর উপর ঢেলেদিতে হবে। খুন্তি দিয়ে আরকবার হালকা নাড়ত হবে। পরের একমিনিটেই তৈরী হয়ে যাবে ডিম চাইনিজ।
টিপস:
ডিম ভাজতে বেশি তেল লাগে না। পোচ করতে তেল না হলেও চলে। তাই তেল ভেজা ন্যাকড়া বা টিস্যু ব্যবহার করেছি আমি। আজকাল আমি সেটাও করি না। বাজারে তেলের স্প্রে কিনতে পাওয়া যায়। স্প্রে করে দিলে সময় বাঁচে আর বাঁচে হাত।
তেল হিসেবে ভেজিটেবল অয়েল, ক্যানোলা , সয়াবিন বা অলিভ অয়েল যে কোনটাই ব্যবহার করা যায়। ক্যানোলাতে ভাজলে একটু মনে হয় তাড়তাড়ি ভাজা হয়। যেসব খাবার মুচমুচে বানালে ভাল তাদের জন্য ক্যানোলা বেষ্ট। আমি অলিভ অয়েলের ফ্যান ; বাসায় গন্ধ কম হয় :P ।
জুন মাসের ৬ তারিখের সকাল বেলা। Marquett Park এ অভিযাত্রীরা । দূরে Marquett সাহেবের মূর্তি । তারও পিছনে দেখা যাচ্ছে Fort Mackinac । সাদা পাথরে বাধানো সিড়ি দিয়ে উঠে দূর্গে প্রবেশ করেই ডানপাশে রাখা কামানটা থেকে একটা তোপধ্বনি করার কথা আমার। আগেই টিকিট কেটে কনফার্ম করে রাখা হয়েছে .
সকাল 9 টায় ট্রেনিং শুরু । তারপর ঠিক সাড়ে নয়টায় চালানো হল তোপ ।
পদব্রজে দ্বীপ প্রদক্ষিনের শুরু। দূর্গ থেকে বেরিয়ে বাগান মত একটা জায়গায় নেমে যাওয়া পথের বাঁকে এসে থামি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বাতায়ন পাশে এমন একটা দৃশ্য পাবার জন্য কত টাকা লাগবে ভাবতে থাকি।
স্কাউটের কুচকাওয়াজ Left .Right. Left ...Left... Left এর তালে তালে
ক্যমেরায় সুজনের একটা ছবি তোলার প্রচেষ্টা চলছিল.এই ভদ্রলোক চলে এলেন ঠিক মোবাইলের লেন্সের সামনে।বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠেই দিলাম চেপে বাটন -
না হয় থাকিস যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাঙচিল।
বাইক লেন ধরে হেটে চলা পথে । .....আমার পথচলার মা...ঝপথে ...
লেকের পাড় এত কাছে পেয়ে উচ্ছসিত , উচ্চকিত অভিযাত্রীরা
ঐ দূর দূর-দূরান্তে,
দিন-দিনান্তে, নীল-নীলান্তে,
কিছু জানতে না জানতে
শান্ত শান্ত মন অশান্ত হয়ে যায়।
আর্চেস রক, গম্বুজ পাথর
সুগারলোফ রক
আর্চেস রক (গম্বুজ পাথর) এর পথে দুই শতাধিক ধাপের সিড়িতে আগত অভিযাত্রীর দল
আবার সাইকেলে দ্বীপ প্রদক্ষিন । আমি আমার পায়ে চেপেই ফিরে চলি ফেরি ঘাটে ।
এই পথ গেছে মিশে আমার বেলা শেষে,
স্বপ্ন ফিরে আসে
পৃথিবীর দুরদেশে জীবনকে কোন এক স্বপ্ন ভেবে ...
সফল দ্বীপ প্রদক্ষিনের পর ট্যানডেমে সওয়ার যুগল
বৃষ্টিস্নাত সকালে বিষন্ন লেক হিউরন । ছেড়ে যাবার আগে শেষ দেখা ।
আমার জন্ম রোহিঙ্গা শিবিরে হতেই পারত। বাংলাদেশে এরকম সোয়া ৪ কোটি মানুষ আছে যাদের ১ দিনের আয় এদেশে একটা গড়পরতা মানুষের ১৫ মিনিটের আয়ের চেয়ে কম। ঐসব পরিবারের যেকোনো একটায় আমার জন্ম হতেই পারত। আমি হয়ত সাগরে ভেসে যাওয়া নৌকায় চেপে বসতেই পারতাম বেনিয়াদের আশ্বাসে। কোনো ভাবে উপকূলে পৌছুতে পারতাম হয়ত। জঙ্গলে বাঘের খাদ্য না হয়ে , অথবা দালালের ক্ষুরধার ছলে বিভ্রান্ত হয়ে কবরস্থ হবার আগেই হয়ত পেয়ে যেতাম একটা নির্মান শ্রমিকের কাজ। পেটেভাতে হয়ত বেচে থাকতে হত না আমাকে। কিছু টাকা পয়সা জমেই যেত বছর শেষে।
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের শেষ সীমাটা এইরকমই।
আমাকে এমন স্বপ্ন দেখতে হয়নি। জন্মের আগেই ওভারিয়ান লটারিটা জিতে নিয়েছিলাম বলে। আমার বাবা-মায়ের নিজের বলার মত একটা দেশ ছিল, তাদের সেখানে থাকার মত জায়গা ছিল, বিপদে পাশে দাড়ানোর মতন প্রতিবেশী ছিল, আমাকে স্কুলে ভর্তি করানোর ইচ্ছা এবং সামর্থ্য ছিল। I am born lucky.