এরিস্টটল বললেন - ফাইজলামির একটা সীমা আছে, তবে আতলামি অসীম।
আইনস্টাইন বললেন - বস আপনার বয়স হয়েছে , কথা একটু ভুলভাল বলেন। আর্কিমিডিস আপনের চে কত ছোট , সে-ও যাচাই না করে কোনো কথা বলে না ; তাকে দেখেও তো শিখতে পারেন । নেক্সট টাইম এইসব তত্ত্ব দেওয়ার আগে আমাকে একবার জিগ্গেস করে নিবেন।
আমাকে আজকাল সবাই ভুল বুঝিতেছে । বলিতেছি এক বুঝিতেছে আরেক। সত্য বলিলে মনে করিতেছে ইতরামি করিতেছি , আর ইতরামি করিলে মনে করিতেছে সত্য । সেই ছোট বেলায় হাপপেন আমলে খেলার মাঠে পোলাপান আমার কথা এক বাক্যে মানিয়া লইত। কারন কাইন্ঠামি -চুরামি- বাটপারি আমি জীবনেও করি নাই। খেলার মাঠে আল-আমিন তথা বিশ্বস্ত হিসাবে বিশেষ সুনামের অধিকারী ছিলাম ।
১.
২০০৫ এ ই হবে হয়তো , রাজশাহী ওমেকায় ক্লাস নিতে গিয়েছিলাম। ক্লাসের ফাঁকে পরিচয় হল নাফিস এর সাথে। বেচারা প্রচুর কথা বলে। আমি শুনে যাই। কাহাতক একটা পোলার বকবক শোনা যায়।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল হয়ে গেল। জার্মানি শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে শিরোপা জিতে নিল । নিজে সাপোর্টার বলেই একটু উচ্ছসিত আমি নিজেও । এলাকার সমবয়সী সবাইকে রোজার দিনে কিছু খাওয়ানোর আশ্বাস না দিয়েই বাসায় ডেকে এনেছিলাম। সাদাত-তিয়াসা পরিবার , নাবিলা আর এরফান। সামি আর তাপসের সঙ্গে এমনিতেই সবসময় খেলা দেখি , ওরা তো আছেই ।
memorial day weekend এ গত বছর মার্কিন মিড ওয়েস্ট এর ৫ টা নতুন স্টেট ঘুরে দেখেছিলাম - মিসৌরি কানসাস নেব্রাস্কা আইওয়া উইসকনসিন। এবার সেরকম কিছু একটা করার প্লান ছিল। কথায় কথায় সামি আর তাপস এর সাথে ঠিক করলাম pacific coast highway টা ড্রাইভ করে ফেললে কেমন হয়? যেই কথা সেই কাজ ২ দিনের মাথায় সিনসিনাটি থেকে ওয়াশিংটন আর সান ডিয়েগো থেকে সিনসিনাটির ওয়ান ওয়ে টিকেট করা হলো। দুই দেশের আর বন্ধুদের জানানো হলো প্লান এর কথা যাতে তারা যোগ দিতে পারে। যদিও জানাই ছিল কেউ পারবে না। রুশদি আর সুপ্তি ভাঙ্কুবার থাকে । সীমান্তের ওপার থেকে ড্রাইভ করে চলে আসবে ওরা। একদিন ওয়াশিংটন এর জন্য রেখে বাকি ৩ দিন PCH এর জন্য বরাদ্দ। সেই মত অফিস থেকে শুক্রবার ছুটি ও নেয়া হলো।
কথার মারে শত্রুরা সব হত কাঠের তক্তা।
যুদ্ধ শুরু হবার আগে বাণী দিলেন মিছে,
ঝাপিয়ে পড় নিয়ে সাথে যার যা কিছু আছে।
ঝাপানো তো দুরের কথা ২৫ সে মার্চ রাতে,
ডিনার সেরেই ধরা দিলেন শত্রু সেনার হাতে।
বাঙালির বিদেশ বিমুখতা আজকের নয় ; শতাব্দী প্রাচীন। সেকালে সমুদ্রযাত্রা খারাপ এই রকম ভিত্তিহীন অজুহাতে লোকজন বিদেশ যেত না বা যেতে দেয়া হত না। সেই প্রথা ভাঙ্তে চেয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়। মনে হয়না খুব একটা কাজ হয়েছে। দেশের বিশাল একটা অংশ এখনো "এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না " এই রকম দর্শন অন্তরে লালন করে । কারনটা দেশের প্রতি টান নয় ; কারন হচ্ছে - নতুন দেশ, নতুন কিছু'র প্রতি বাঙালির চিরকালের ভীতি বা জড়তা। দেশপ্রেম এখানে অজুহাত মাত্র। [পুরোপুরি ব্যক্তিগত ধারনা]